বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
আমাদের বিশ্বাস ও আস্থায় আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমাদের বিশ্বাস ও আস্থায় আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Spread the love
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন আজকের দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা রাষ্ট্রের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী চিন্তার কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবহুল ভাষণটি শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তিনি প্রযুক্তিবিদ নন, কিন্তু প্রযুক্তির নতুন জ্ঞান সৃষ্টির ধারণা তিনি তৈরি করতে পারেন।

কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকার কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।’ কিন্তু এখানেই তিনি থেমে থাকতে চান না। তিনি তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যাটি বিশ্লেষণ করেছেন ও প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। বস্তুত তিনি মনে করেন, সোলার প্যানেলগুলো আকারে বড় হওয়ায় আবাদি জমির অনেকখানি জায়গা ঢেকে রাখে। ফলে জায়গাটি ছায়াযুক্ত ও অন্ধকার হয়ে পড়ে। এ কারণে শস্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো ছায়াযুক্ত জায়গাটিতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায় এবং ফলনও ভালো হয় না। এ সমস্যাটি সমাধানের ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন যে যদি এই সোলার প্যানেলগুলো আবাদযোগ্য জমি থেকে অনেক ওপরে রাখা যায়, তবে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের দিনগুলো কেটেছে মধুমতী নদীর নানা বৈচিত্র্যে। তিনি সেখানে যেমন সারি সারি পালতোলা নৌকা দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন মানুষ, প্রকৃতি ও জেলেদের জীবন। নদীর সবুজ কচুরিপানাগুলোর কথাও তিনি ভোলেননি। এই ভাসমান কচুরিপানা সবজি চাষেও যে ব্যবহৃত হতে পারে, সেটি তিনি তাঁর সৃজনশীল আবহমান ধারা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। এ ক্ষেত্রে ভাসমান কচুরিপানা স্তূপ করে এই চাষ করা হয়। গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে বিষয়টিকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। জলেও যে ফসল উৎপাদন সম্ভব এবং এ বিষয়ে যে গবেষণা হতে পারে, এ বিষয়টিকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্ভাবনী চিন্তা কৃষি গবেষকদের যে অনুপ্রাণিত করেছে এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে হাইড্রোপনিং পদ্ধতিতে শস্য উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টির ধারণা তুলে ধরেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী ধারণার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তিনি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনে নতুন উপাদান চিহ্নিত করেছেন, যা আগে সেভাবে ভাবা হয়নি। এ ধারণাটি যে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে ঘটছে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টির পারস্পরিক সমন্বয় ঘটেছে এ বহুমাত্রিক চিন্তাধারায়। এ ক্ষেত্রে তিনি খাদ্য, পানি ও অভিবাসন—এই তিনটি উপাদান জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যের মান—এই দুটি মৌলিক উপাদান বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়। এর ফলে নিরাপদ ও সুপেয় পানির অভাব দেখা দেয়, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আবার জলবায়ু পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে লাখ লাখ মানুষ বাস্তচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছে। এটির সরাসরি প্রভাব রয়েছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর, যা নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ। এসব প্রভাবের কারণে সম্পদের ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে উত্তরণে জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু শস্যব্যবস্থা, পানির যথাযথ ব্যবহার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনায় একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের ধারণা প্রধানমন্ত্রীর সৃজনশীল চিন্তাধারারই প্রতিফলন। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক অচিম স্টেইনার তাঁর ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি উদ্ভাবনমূলক নীতিগত পদক্ষেপ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বাংলাদেশ তার উন্নয়নের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কার্যক্রম থেকে শুরু করে বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অনেক বেশি প্রস্তুত।’ জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির অগ্রগামী বাস্তবায়নকারী ও অভিযোজন নীতির স্বপক্ষের একজন বলিষ্ঠ প্রবক্তা হিসেবে শেখ হাসিনা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাসম্পন্ন সরকারপ্রধান হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘গ্লোবাল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ (জিআইই) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘মোস্ট ইনোভেটিভ পলিটিশিয়ান’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র উদ্ভাবনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষণামূলক কার্যক্রম করে থাকে। উদ্ভাবন ও চিন্তাশীলতার সৃজনশীল আইডিয়াগুলো সংগ্রহ করে সেই বিষয়গুলো ম্যাগাজিনে প্রকাশ করে। তাদের সাম্প্রতিকালের গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বলেছে, ‘বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মধ্যে উদ্ভাবনী ক্ষমতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তাঁরা রুটিনমাফিক কাজ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এমন কোনো সরকারপ্রধান দেখা যাচ্ছে না, যাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব রেখেছে।’ জিআইই তাদের বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিনটি উদ্যোগকে অত্যন্ত ক্রিয়েটিভ ও ইনোভেটিভ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা অন্য দেশগুলো তাদের দেশে প্রয়োগ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছে। সংস্থাটি ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’-এর ধারণাটিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে ইনোভেটিভ আইডিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় উদ্ভাবনী চিন্তার বাস্তবায়ন বলা হচ্ছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’, যার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক চমকপ্রদ পথ আবিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর তৃতীয় উদ্ভাবনী চিন্তার নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ। হতদরিদ্র, অর্ধশিক্ষিত মানুষের হাতে তথ্য-প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়ে কার্যত শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে বদলে গেছে বাংলাদেশের চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী শুধু নিজের মধ্যেই এই সৃষ্টিশীলতা ধারণ করেননি, মানুষের মধ্যেও এটা যাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে তা অব্যাহত আছে। প্রকৃত অর্থে যাঁর মধ্যে মানবতাবোধ আছে, সততা আছে, একটা সুন্দর মন আর প্রত্যয় আছে তিনিই নতুন কিছু ভাবতে পারেন, উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ভাবন নিয়ে ভাবেন মানুষের কল্যাণে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণায়।
রাষ্ট্রের দর্শন সবাই দিতে পারে না। দর্শনের সাথে উন্নয়নের সম্পর্কও সবাই সৃষ্টি করতে পারে না। কেউ কেউ পারেন। তাঁদেরই একজন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যেখানে বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাস্তবায়নের অসমাপ্ত বেদনার অঙ্গীকার, সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের দর্শনের সূত্রপাত। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা থেকে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের দুঃসাহসী যাত্রা।

এ কারণে ভারতের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও তার সফল বাস্তবায়ন ঘটাতে পেরেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শনকে নিজের পায়ে মাথা তুলে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। তিনি ভেবেছেন, মানুষকে ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।

১৫ আগস্টের নির্মমতার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তিনিই প্রথম ভেবেছেন বিদেশের সহায়তায় নয়, নিজেদের অর্থায়নে উন্নয়নের দর্শনকে কিভাবে এগিয়ে নিতে হয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার দর্শনগত ধারণা থেকে বিশ্বাস করেন যে রাজনীতির মধ্যে কোনো আদর্শ বা দর্শন নেই, সে রাজনীতির কোনো লক্ষ্য বা অর্জন নেই। যেখানে লক্ষ্য থাকে না, সেখানে জনগণের সম্পৃক্ততাও থাকে না।

বঙ্গবন্ধু রাজনীতিতে একটি আদর্শ বা দর্শন দিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা শক্তি দিতে পারেনি। বাঙালী জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে এই দর্শনের সূত্রপাত ঘটে। যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রিত করে উদার ও সর্বজনীন মনোভাব গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করা হয়।

এ দর্শনের আরেকটি দিক ছিল তা হলো, মহা অর্জনের জন্য মহাত্যাগ দরকার। রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াই ছিল এটির মূল উদ্দেশ্য। যেখানে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মানুষ তার ত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

তবে অপরাজনীতির আগ্রাসনের ফলে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর দর্শনভিত্তিক রাজনীতির সুষম ধারণা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন। দর্শনের জায়গায় সুবিধাবাদিতা জায়গা করে নেয়। যেখানে সুবিধাবাদিতা থাকবে, সেটাকে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শভিত্তিক রাজনীতি বলা যাবে না। বরং এটাকে রাজনীতির আগাছা ও পরগাছা বলা যায়।

রাজনীতিতে রাজনীতিবিদরা ভুল করতে পারেন, কিন্তু জনগণ যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তার নেতিবাচক প্রভাব রাষ্ট্রকে বহন করতে হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শভিত্তিক রাজনীতির শক্তি সরকারে রয়েছে। এখানে ইতিবাচক রাজনৈতিক ফলাফলের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে এরমধ্যে স্বার্থভিত্তিক আগাছাও জন্ম নিয়েছে, যা অনেক সময় ইতিবাচক দিকগুলোকে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করছে।
তবে এরমধ্যে সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে, আদর্শকে ধারণ করে কিভাবে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া যায়, সেটি ভাবার মতো নেতৃত্বও গড়ে উঠেছে। সেটি গড়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেও জানেন, কাদের মধ্যে আদর্শের জায়গায় আগাছা জন্মেছে, পরগাছাও সৃষ্টি হয়েছে। তিনিও এটি নিয়ে ভাবছেন। তার ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এদের চিহ্নিত করে যাচ্ছেন। কারণ তিনি জানেন এরা সুসময়ের ছায়া সহচর আর দুঃসময়ে এদের হয়তো দেখা যাবে বিপরীত মেরুতে।

বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, যেকোনো মহৎ কাজ করতে হলে ত্যাগ ও সাধনার প্রয়োজন। যারা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়, তারা জীবনে কোনো ভালো কাজ করতে পারে নাই এ বিশ্বাস আমার ছিল।

রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহা ত্যাগ চাই। সুতরাং ভোগ নয় ত্যাগের মনোভাব নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশে রাজনীতি দুই ধরনের- একটি ভোগের রাজনীতি আর অন্যটি হল ত্যাগের রাজনীতি। ভোগের রাজনীতির উদ্দেশ্যই হচ্ছে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া, বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়া, পদ-পদবি নেয়া, সামাজিক স্ট্যাটাস নেয়া। এটা হলো এক ধরনের রাজনীতি।

কিন্তু যে রাজনীতি আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, শিখে এসেছি, যে আদর্শ ধারণ করেছি, সেটা হলো ত্যাগের রাজনীতি। এর অর্থ হলো মানুষের জন্য কাজ করা। নিজের ভোগের জন্য সে রাজনীতি নয়।

রাজনীতির সাথে উন্নয়নের দর্শনকে সম্পৃক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। দেশ স্থিতিশীল হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় তা তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীনসহ অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রের মতো দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিকসহ উন্নয়নের সব সূচকেই এখন আমাদের দেশ অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। এই একটি বিষয় যা আমাদের দেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করতে সক্ষম হয়েছেন। সেই অর্জনের জায়গাটি কি কখনো আমরা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে দেখেছি? সৃষ্টিশীল চিন্তা আর ভবিষ্যৎকে দেখার বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি এমন সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা আমাদের দেশের মানুষ কখনোই ভাবতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সোনার বাংলার কথা। সে কথার মর্মার্থ প্রতিফলিত হয়েছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়। যখন উন্নয়ন বাস্তবায়নে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভেঙে পড়েননি। বরং উঠে দাঁড়িয়ে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন আমরাও পারি। একটার পর একটা উন্নয়নের চিহ্ন দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। পেছনের দিকে ফিরে তাকানোর আর সময় নেই।

পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে সফল করার যে ঘটনা, সেখানে আশাবাদী মনোভাব তৈরির জায়গাটা অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে মানুষের ওপর। এই সিদ্ধান্ত যে একটি জাতির মনোভাব ইতিবাচকভাবে বদলে দিয়েছে, তা কি কখনো আমরা ভেবেছি? হয়তো এটি নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা হতে পারে। আকাশ, মাটি, পানি, পরিবেশ সবখানেই প্রধানমন্ত্রীর কৌশল আর পরিকল্পনা সফল হয়েছে। এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হয়েও আমরা রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে জায়গা করে দিয়েছি। একসময় মনে হয়েছিল এই সংকটে আমাদের সঙ্গে কেউ নেই। কিন্তু এখন তো সবাই আমাদের সঙ্গে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিচার-বিবেচনায়। এ সমস্যার সমাধান কি হবে সেটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখাও এসেছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী চিন্তাধারা থেকে। তিনি কোনো বিজ্ঞানী নন। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা ও দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার দর্শন তার মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি জানেন উদ্ভাবন যত বেশি হবে, দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে। নিজে আইডিয়া তৈরি করেন, আমাদের দেশের সব স্তরের মানুষকে আইডিয়া তৈরির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সারাদেশে বিশেষ কয়েকটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে এগুলোর কয়েকটির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৃষ্টিশীল রাষ্ট্র উন্নয়নের ভাবনার মাধ্যমে এই বিষয়টি সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এই ঘোষণাটি এসেছে। তা হলো-মাথাপিছু আয়, জনসম্পদ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। যেমন অনেকেই ভেবেছিলেন, সরকার ও রাষ্ট্র নিজ শক্তিতে পদ্মা সেতু গড়ে তুলতে পারবে না। কিন্তু নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু গড়ে তোলার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। বিষয়টিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
এখানে একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে গেছে তা হয়তো অনেকেই ধারণা করতে পারেনি। এটি হলো প্রধানমন্ত্রীর এ ইতিবাচক মনোভাব জনগণের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে বিচক্ষণ নেতা বিবেচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের বিগত ৫ বছরে রাজনীতিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতার ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় শেখ হাসিনাকে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মোট ৫টি বিষয় বিবেচনা করেছে। এগুলো হলো- ১. কত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ২. সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি কতটা সঠিক বিবেচিত হয়েছে, ৩. গৃহীত সিদ্ধান্ত মানব কল্যাণে কি ভূমিকা রেখেছে, ৪. সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কি হয়েছে এবং ৫. সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যমান সমস্যার ক্ষেত্রে কি ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫ বছরে বিশ্বে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের গৃহীত সেরা ৫টি সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল- রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭’র আগস্ট মাসে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেন।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে যোগ্য সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকে বিবেচনার প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হয়েছে- রোহিঙ্গা ইস্যু বিশ্বে মানবতার এক সংকট সৃষ্টি করত। কিন্তু শেখ হাসিনার মানবিক, বিচক্ষণ এবং সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ব এক মানবিক সংকট থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পায়।

শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু নয়, পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের গবেষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও কিছু সাহসী, বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত উঠে এসেছে। এর মধ্যে নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স সিদ্ধান্তকে অনুকরণীয় এবং দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। এসব মানুষের মনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, যুক্তরাজ্যের ডেভিড ক্যামেরন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছেন। এটি যেমন আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়, তেমনি এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে- আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার ইতিবাচক মনোভাব ও কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জনগণের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।

এখন দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের মনের পরিবর্তন। এটি যদি করা যায়, তবেই সমাজের সর্বস্তরে মানবিক প্রগতির ধারণা সৃষ্টি করে মানুষকে পরিবর্তন করা সম্ভব। আর ইতিবাচকভাবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমেই জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তোলা যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবের চেয়ে বেড়েছে। একইসঙ্গে মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে যা ছিল ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার। চূড়ান্ত হিসাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলার।

‘২০৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত ও অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলো ছাড়িয়ে যাবে। ২০৫০ সালে কতটা এগোবে বাংলাদেশের অর্থনীতি? এ নিয়ে বৈশ্বিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। আর ওই ধাপে এগোলে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হবে বিশ্বে ২৮তম।

লেখক : শিক্ষাবিদ, কলামিষ্ট ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগামী ৩৪ বছরে কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে গবেষণা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস। প্রতিষ্ঠানটির ‘সুদূরপ্রসারী ২০৫০ সাল নাগাদ কিভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে?’ শীর্ষক সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশ নিয়ে এমন আশাবাদের তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াটারহাউস কুপারস গবেষণায় বলা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের জিডিপির আকার হবে ১ হাজার ৩২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০৫০ সালে গিয়ে যা দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৪ বিলিয়ন ডলারে।

একটি দেশের অর্থনীতি কতটা বড় ও শক্তিশালী, সেটা নির্ধারণে সর্বস্বীকৃত দুটি উপায় আছে। একটি হলো ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার ভিত্তিতে জিডিপির আকার, অন্যটি হলো বাজার বিনিময় হারের (এমইআর) ভিত্তিতে জিডিপির আকার। এসব সমীক্ষায় আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র বিজয় শিল্পের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ‘ইটলস’ কর্তৃক ঘোষিত রায়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গ কিলোমিটারের এক বিশাল এলাকা লাভ করে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে ছিল আঞ্চলিক জলসীমা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সম্প্রসারিত মহীসোপানের অবাধ অধিকার ও ১১টি গ্যাস ব্লক।

পরবর্তী সময়ে নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতের রায়ে বাংলাদেশ ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার অধিকার অর্জন করে। এই বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের স্রোতকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে পারে। এছাড়া সি মাইনিং অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশে যে অসীম সম্পদের ভার রয়েছে তা উত্তোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের রোডম্যাপ অনুযায়ী অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারে।

২০২৪ সালে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করেছে। কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। যেটা জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব করার মতো। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ষষ্ঠ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নারী উন্নয়নে বাংলাদেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘জ্ঞ্নোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬’ অনুযায়ী ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম, যা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো অবস্থান নির্দেশ করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণে নিবেদিত হতে হবে। শুধু রুটিন দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে আরো কি কাজ করলে মানুষের কল্যাণ হয় সেটা চিন্তা করে সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি চাকরি যে একটা রুটিন চাকরি, আসলাম বেতন নিলাম চলে গেলাম সেটা নয়, নিজের ভেতরে উদ্ভাবনী শক্তি কি আছে সেটাও কাজে লাগাতে হবে। নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হবে। যেখানে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত তাকে সেখানে ভাবতে হবে এটা আমার নিজের দায়িত্ব, কারণ এই দেশটা আমার। দেশের মানুষগুলো আমার। কাজেই দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের কাজ করতে হবে। এখানে উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। আবার দেশপ্রেমের সঙ্গে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার যে যোগসূত্র রয়েছে তাকে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিজ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, খুলনার জেলা প্রশাসন কল্যাণমুখী উদ্ভাবনী ধারণার প্রণোদনা প্রয়োগ করে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ প্রশাসনের একদিনের বেতন দিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য একটি ফান্ড গঠন করেছেন। এই অর্থ ব্যবহার করে ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে উদ্ভাবনী শক্তির চর্চা ও প্রয়োগ করে সকল পর্যায়ে সৃজনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এটি একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের চিন্তাধারাকে ইতিবাচক মানদণ্ডে বিচার করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রযুক্তিবান্ধব উন্নয়ন দর্শন প্রয়োগের ফলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম তাদের কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে । সাম্প্রতিক সমীক্ষায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে। এখন আউসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। এ তথ্যটি জানিয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও পাঠদান বিভাগ। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে ভারত ২৪ শতাংশ অধিকার করেছে। এরপর বাংলাদেশ ১৬ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্র ১২ শতাংশ অধিকার করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশকেই পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়নি, বরং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, রাশিয়া, ইতালি ও স্পেন বাংলাদেশের পেছনে অবস্থান করছে, যা প্রকৃত অর্থেই গৌরবের বিষয়। এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে, মানুষের মধ্যে তার নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তোলার মতো সৃষ্টিশীল চিন্তাধারা তৈরি হয়েছে। এটি প্রযুক্তির পরিবর্তন ও পেশা পরিবর্তনের মৌলিক ধারণার মধ্যে যোগসূত্র এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।

সামগ্রিক বিবেচনায় পুরনো ও নতুন ধ্যান-ধারণার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কোথায় যেন একটা পারস্পরিক অদৃশ্য সম্পর্ক রয়েছে।১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন তিনি। এটি কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল না, বরং এটি ছিল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে খুব পরিকল্পিত জঘন্যতম হত্যাকা-। এর পরও আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি, বরং দেশের স্বাভাবিক আইন অনুয়ায়ী এ হত্যার বিচার হয়েছে। একবার কি আমরা ভেবে দেখেছি, এভাবে ঘাতকদের হাতে যদি কোনো মানুষের পুরো পরিবার প্রাণ হারাত তবে কি সে নিজেকে স্থির রাখতে পারত। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের কথা ভেবে নিজেকে এমনভাবে গড়েছেন, যেখানে শোক তার শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন থেকে আরেকটি বিষয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, যারা দর্শন নয় ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করছেন তাদের কোনো মূল্য নেই। হয়তো তিনি তার চারপাশের মোশতাকদের এভাবে প্রতিদিন চিনে রাখছেন, যাতে করে তাদের ভেতরের অভিসন্ধি বের করে আনতে পারেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের কাছে আমাদের যে দায়বদ্ধতা থেকে গিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে তার অবসান ঘটাতে পেরেছেন। কিন্তু তার পরও অপশক্তি বসে নেই। বিভিন্ন কৌশলে তারা আবির্ভূত হচ্ছে। কখনো জঙ্গিবাদ, কখনো সন্ত্রাসবাদ, কখনো আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওসহ বহুমুখী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এখন দরকার সন্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে রুখে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনকে এগিয়ে নেওয়া |


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি