রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
আমির হোসেন আমু: দ্য লাস্ট কিং মেকার

আমির হোসেন আমু: দ্য লাস্ট কিং মেকার

আমির হোসেন আমু: দ্য লাস্ট কিং মেকার

Spread the love

সংবাদের পাতা ডেস্ক: সুদর্শন তারকা নন তিনি, জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে জনসমুদ্রকে উত্তাল করতে পারেন না। সম্মোহনী শক্তিও নেই, কিন্তু তার পরেও তিনি রাজনীতির এক বিরল তারকা। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস লিখতে গেলে তার নাম কখনো বাদ দেওয়া যাবে না। তিনি টেবিলটকে সেরা, রাজনীতির নেপথ্যের কারিগর, কিং মেকার। বহু নেতাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি। তিনি হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। তাকে বলা হয় দ্য লাস্ট কিং মেকার।

রাজনীতিতে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে তিনি হয়তো শেষ কীর্তিমান পুরুষ । বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক জীবন্ত কিংবদন্তী তিনি। আমির হোসেন আমু কখনোই রাজনীতিতে তুমুল জনপ্রিয় জনতার নেতা ছিলেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশেষ করে ৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে তিনি বিশ্বস্ততা এবং আস্থার প্রতীক পরিণত হয়েছিলেন। নেতা-কর্মীদের সব কথা বলার এক কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করা, লালন করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এক অন্যন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। অধিকাংশ ভূমিকাই তিনি পালন করেছিলেন নেপথ্যে থেকে।

৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমির হোসেন আমু এক উজ্জ্বল তারকা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়েছিলো। আর সে সময়েই ১৯৮১ সালের ১৭ই মে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর এক তাগিদ থেকে সব কিছু তুচ্ছ্য করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। এসময় ঘরের বাইরে তিনি একাকী ছিলেন এবং প্রতিকূল এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন। সে সময় সবচেয়ে তাকে বেশি প্রতিকূলতার মূখোমুখি হতে হয়েছিলো দলের ভেতর থেকে। দলে বাম এবং অতিডানদের দ্বন্দ্বে শেখ হাসিনার দিশেহারা অবস্থা। এ সময় শেখ হাসিনাকে যারা শক্তি যুগিয়েছিলো, সাহস যুগিয়েছিল এবং যারা শেখ হাসিনার পাশে আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমির হোসেন আমু।

আর সে সময়ে আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে। আমির হোসেন আমুর রাজনৈতিক মেধা সৌকর্য এবং কৌশল আলোচনায় আসতে থাকে । আমির হোসেন আমু এ সময় শেখ হাসিনার কেবল বিশ্বস্ত একজন সহযাত্রী ছিলেন না বরং আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্বকে টেনে তোলা, তাদেরকে সুযোগ দেওয়া এবং নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসে এক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন।

আর একারণেই আমির হোসেন আমু বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন ৭৫ পরবর্তি বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যখন দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেই সংখ্যালঘু। তার সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করেন অনেক হেভীওয়েট নেতারা, সে সময় আমির হোসেন আমু শুধু তার পাশেই দাঁড়ান নাই, সংখ্যালঘু কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি কথায়, বিচক্ষণতার যুক্তিতর্ক দিয়ে পরাভুত করেছিলেন তথাকথিত হেভীওয়েটদেরকে। আর একারণেই আমির হোসেন আমুকে বলা হয় টেবিল টকের মাস্টার। তিনি রাজনতিক কৌশলে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে হয়তো তাকে আর কেউ স্পর্শ করেতে পারবে কি না তা নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একলা চল অবস্থা থেকে যৌথ রাজনীতি, জোটের রাজনীতিতে আসাটাও আমুর একটি বড় কৃতিত্ব। আর এ সময়ে আজকের তথাকথিত মুজিবভক্ত বামরা যখন জয় বাংলা বলতে ভয় পায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশতে আড়ষ্টতা অনুভব করে, ঠিক তখনই আমির হোসেন আমু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং আওয়ামী লীগের আদর্শকে মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে জোটের অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। আমির হোসেন আমু এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন। আর এ কারণেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন তীব্র বক্তা, এমনকি একজন ক্যারিশমাটিক নেতা না হওয়া সত্ত্বেও আমির হোসেন আমু অমরত্ব পাবেন, তার বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক কৌশলের কারণে ।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি