মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
কর্মবিরতিতে অচল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

কর্মবিরতিতে অচল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

কর্মবিরতিতে অচল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

Spread the love

বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নিজস্ব দপ্তরে আসছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার। একই সাথে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় এবং উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের অনুপস্থিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, কর্মকর্তাদের দাবিগুলো মেনে না নেয়ায় এবং তাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে কোন আশ্বাস না পাওয়ায় ৪র্থ দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যহত রেখেছে কর্মকর্তারা। উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আমিনুর রহমানকে অব্যাহতি, ডেপুটি রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফাকে সংস্থাপন শাখা থেকে অন্য দপ্তরে বদলিসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি করছেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার কর্মবিরতির ৪র্থ দিনে সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রার দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন।

কর্মকর্তাদের দাবিগুলো হলো পদোন্নতি কর্মকর্তাদের স্থায়ীকরণ অবিলম্বে সম্পন্ন করা, যেসব কর্মকর্তার পদোন্নতি বোর্ড হয়নি তাদের বোর্ড দ্রুত সম্পন্ন করা, যেসব কর্মকর্তার পদবী বদল করা হয়েছে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনা, সরকারি নিয়মে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম প্রস্তুত করা, প্রতিটি দপ্তরকে নিজস্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক ভবনে কক্ষ বরাদ্দের নিমিত্তে যে কমিটি গঠিত হয়েছে তাতে জ্যেষ্ঠতার নীতি অবলম্বন করা, ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধ করা, হয়রানিমূলক বদলীকৃত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দফতরে পুনর্বহাল করা, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে স্বতন্ত্রতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তার নজরদারি বন্ধ করা।

এ বিষয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির আজ চতুর্থ দিন চলছে। এই চার দিনে রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্য মহোদয় আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়য়ে এখন পর্যন্ত কোন আশ্বাস দেননি, এমনকি রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্য মহোদয় কর্মবিরতির শুরুর দিন থেকে নিজস্ব দপ্তরে পর্যন্ত আসেন না। এমতাস্থায় আমাদের যৌক্তিক ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।

এদিকে কর্মচারীদের দাবিগুলোর ব্যাপারে কোন আশ্বাস না পেয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি অব্যহত রেখেছেন কর্মচারী ইউনিয়ন (৪র্থ শ্রেণি)। ১০ দফা দাবি আদায়ে কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল চত্বরে কর্মবিরতি করছেন তারা।

কর্মচারীদের দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী সিন্ডিকেটের আগে কর্মচারীদের নীতিমালা পাশ, চলতি মাসেই ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধ, দ্রুত পেনশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারীদের চাকরিতে পুনর্বহাল, দূরের কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিচার করা, কর্মচারী নিয়োগ কমিটিতে কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি রাখা ও মাস্টারোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করা।

কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, আমাদের দাবিগুলো নিয়ে এখনো উপাচার্য মহোদয় কোন আশ্বাস দেননি। তাই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে না নেয়া পযর্ন্ত আমাদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলতেই থাকবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কমিলমউল্লাহ এবং রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি