মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
কোটি ডলারের মডেল এখন গৃহহীন, ঘুমান রাস্তায়

কোটি ডলারের মডেল এখন গৃহহীন, ঘুমান রাস্তায়

কোটি ডলারের মডেল এখন গৃহহীন, ঘুমান রাস্তায়

Spread the love

বিনোদন ডেস্ক: ‘সময় চলে যায়, আর দুঃসময় কাউকে বলে-কয়ে আসে না’ কথাটার জলজ্যান্ত উদাহরণ নাস্তাসিয়া আরবানো (৫৭)। বিশ্বখ্যাত ‘ভৌগ’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা নামীদামী এই মডেল বড় খারাপ সময় পার করছেন।

এক সময় ক্যারিয়ারের শীর্ষে উঠা নামিদামি এই মডেল মাত্র ২০ দিনে উপার্জন করতেন ১০ লাখ ডলার। মডেলিং করেছেন সুপারমডেল লিন্ডা ইভানজেলিস্তার মতো মডেলদের সঙ্গে। কাঁধে কাঁধ রেখে চলতেন জ্যাক নিকলসন ও ম্যাডোনার মতো তারকাদের সঙ্গে। ছিল হাত ভরা ডলার। কখনো ভবিষ্যত নিয়ে ভাবেননি।

কিন্তু সেই বিখ্যাত হয়ে ওঠা ভৌগ মডেলকন্যা নাস্তাসিয়া আরবানো এখন গৃহহীন। রাত কাটে তার বারসেলোর রাস্তায়। স্পেনের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।
সাবেক স্বামী সমস্ত অর্থ নিয়ে চলে যাওয়ায় আজ তার এমন করুণ অবস্থা দাবি করে স্পেনের এল পেরিডিকো’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নাস্তাসিয়া বলেছেন, আমি যেসব ম্যাগাজিনের জন্য কাজ করেছি, সেখানে সবাই আমাকে ভালবাসতেন। বছরে মাত্র ২০ দিন কাজ করার জন্য আমাকে দেয়া হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। এভাবে উপার্জন করেছি তিন থেকে চার বছর। এক রাতে আমি জ্যাক নিকলসনের সঙ্গে নৈশভোজ করেছি তো পরের রাতে অ্যান্ডি ওয়ারহোল অথবা রোমান পোলানস্কির সঙ্গে। পার্টি করেছি মেলানি গ্রিফিথ, ডন জনসন, সিমন ও গার ফানকেলের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, সিন পেনের সঙ্গে ম্যাটেরিয়াল গার্লখ্যাত ম্যাডোনার বিয়ে ঠিক হলো। তাতে ডেভিড কিথকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। ওই বিয়েতে আমি তো প্রায় যোগ দিয়েই ফেলেছিলাম। কারণ, ওই সময় আমি ডেভিড কিথের সঙ্গে ডেটিং করছিলাম। কিন্তু ম্যাডোনার বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি আমাদের কিছুটা সমস্যার জন্য। ওই সময় আমার সবই ছিল। আমি যেন একজন রানী ছিলাম।

নাস্তাসিয়া দাবি করেন, আমার জীবনধারায় জৌলুস শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ আমার সাবেক স্বামী। সে আমার শুধু কাপড় চোপড় ছাড়া সব কিছু নিয়ে যায়। তার সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে ভাল যে জিনিসটি পেয়েছি তা হলো সন্তান। বাকি যা ছিল তার সবটাই হরিবল বা ভয়াবহতা। আমার অর্থ দিয়েই তিনি সব কিছুর বিল দিতেন। তার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার মাত্র দু’দিন পরেই তিনি আবদার করলেন তাকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনে দিতে। আমিও বোকা ছিলাম। একটি চেক সই করে দিলাম। কারণ, তাকে যে আমি ভালবাসতাম।

প্রচণ্ড হতাশায় ভেঙে পড়েছেন নাস্তাসিয়া আরবান। তিনি সেই হতাশায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস টেনে বলেন, ভাড়া দিতে পারেন না তাই তাকে বেশ কতগুলো বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এখন তিনি রাত কাটান কোনো বন্ধুর বাসার সোফায় না হয় নদীর তীরে। অথবা কোনো রাস্তায়। অথবা কোনো এটিএম বুথের বাইরে সামান্য পরিসরে।

নাস্তাসিয়া বলেন, আমি শুধু বেঁচে থাকতে চাই না। সম্মানের সঙ্গে জীবন চালাতে চাই। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমি বড় ক্লান্ত। এর ওর কাছে অর্থ চেয়ে আমি লজ্জিত। আমার চারপাশে যারা ছিলেন তারা সরে গেছেন। সবাই সরে যায়। আমি চাই অন্তত আমার সন্তানরা আমাকে একটু দেখাশোনা করুক। আমি আমার সম্মান ফিরে পেতে চাই।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি