মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১২ অপরাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
ডিএনসিসি মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ: সব হারিয়ে নি:স্ব ব্যবসায়ীরা

ডিএনসিসি মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ: সব হারিয়ে নি:স্ব ব্যবসায়ীরা

ডিএনসিসি মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ: সব হারিয়ে নি:স্ব ব্যবসায়ীরা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি: গুলশান-১ নম্বরে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। অনেক ব্যবসায়ীদের পুড়েছে কষ্টার্জিত শেষ সম্বল। মার্কেটজুড়ে এখন শুধু তাদের আহাজারি আর কান্নার রোল। কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নির্বাক হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন। আর শুধু বিলাপ করছেন।

দোকানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কেটের টিনশেডের কাঁচাবাজার অংশে প্রায় ৩০০ দোকান রয়েছে। এসব দোকানে ফুড আইটেম, শাকসবজী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হত। আগুনে প্রায় সকল দোকান ও মালামাল পুড়ে গেছে।এমনকি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সামুদ্রিক মাছগুলো পুড়ে গেছে।

শনিবার (৩০ মার্চ) ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন লাগে গুলশান ১ নম্বরের এ মার্কেটে। খবর পেয়েই ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা। রমিজ উদ্দিন নামে এক দোকান মালিক বলেন, কাঁচাবাজারে আমার নয়টি দোকান ছিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভেতরে প্রায় ৩০০ দোকানের মতো আছে প্রায় সবই পুড়ে গেছে।

কাঁচাবাজারের কনফেকশনারি দোকানের মালিক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো কাঁচাবাজারের কোনো দোকানই অবশিষ্ট নেই। বাজারের ২৯২ টি দোকানের মধ্যে ৮১টি দোকান কিছুদিন আগে ডিএনসিসি মার্কেটের পার্কিংয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।সবগুলোই শনিবারের আগুনে পুড়ে গেছে।

আব্দুর রহিম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ভোরে আগুন লেগেছে, ভেতরে কেউ ছিল না তখন। আগুনে সব দোকান পুড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে ছেই হয়ে গেছে। ৩০০ দোকানের মধ্যে একটিও বাঁচে নাই। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখানে বেশিরভাগই দুধ, মশলা, খাদ্য ও শিশু পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুলশান ১ নম্বর পয়েন্টের এ মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। সবদিকে শুধু পুড়ে যাওয়া পণ্যের ছাই। কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই দোকানের। আবার কোনো দোকানের সামনে পড়ে আছে আলু, পেঁয়াজ। পুড়েছে ফ্রিজে থাকা মাছ, মুরগিও। কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নির্বাক হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন। আর শুধু বিলাপ করছেন।

গুলশানের এ মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে দোকান লাগিয়ে বাসায় যাই। কিন্তু কে জানতো, ভোরেই উপার্জনের এ সম্বল হারিয়ে যাবে।

শনিবার ভোরে লাগা এ আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। পাশাপাশি কাজ করে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিথ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ২০১৭ সালে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষকে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার জন্য তিন/চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু নোটিশের জবাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে, ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

শনিবার সকালে গুলশান-১ এ ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ডিডি শামিমকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো হতাহত নেই বলেও জানান শাকিল নেওয়াজ।

শনিবার ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌ ও সেনাবাহিনী কাজ করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা।

প্রসঙ্গত, এরআগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় কাঁচবাজার অংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে ফের ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি