রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
প্রেস কনফারেন্সে ডাক্তারদের কনফিডেন্সটা দেখার মতো ছিল

প্রেস কনফারেন্সে ডাক্তারদের কনফিডেন্সটা দেখার মতো ছিল

প্রেস কনফারেন্সে ডাক্তারদের কনফিডেন্সটা দেখার মতো ছিল

Spread the love

রুমি আহমেদ: ওবায়েদুল কাদেরের চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলি। এই লিখার জন্য যা তথ্য পেয়েছি তার পুরোটাই পাবলিক রেকর্ড থেকে নেয়া- মূলত তার চিকিৎসকদের প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে জানা।

বিএসএমএমইউর ভিসির বক্তব্য অনুযায়ী অসুস্থতার কোনো এক পর্যায়ে বিএসএমএমইউ’তে ওবায়েদুল কাদের সাহেবের সম্ভবত কার্ডিয়াক এরেস্ট হয় এবং সিপিআর (চেস্ট মেসেজ ) দেয়া হয়। আমাদের সংবাদিকরা সম্ভবত ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝেননি এবং কোনো ফলোআপ প্রশ্ন করেননি। বড় প্রশ্ন হচ্ছে কতক্ষণ সিপিআর (চেস্ট মেসেজ) দেয়া হয়েছিল। সিপিআর (চেস্ট মেসেজ) এর ডিউরেশন এর উপর নির্ভর করবে ব্রেইন এ রক্ত চলাচল কতক্ষণ ‘ইনএডেকুএট’ ছিল।

ডাক্তাররা বলছেন, উনি চোখ খুলছেন কিন্তু এখনো হয়তো বোঝা যাচ্ছে না উনি কতটা পারপাসফুল ভাবে রিএক্ট করছেন। কার্ডিওলোজিস্টরা ওনার হার্ট ভালো করে দিতে পারবেন কিন্তু এই ব্রেইন ড্যামেজে হলো কিনা তার উপর কাদের সাহেবের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ভর করবে। আশার কথা উনি চোখ খুলছেন, কিন্তু এটা পারপাসফুল কিনা বোঝা যাবে শিগগিরই, হয়তো আজই।

বিএসএমএমইউ এর ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি যেভাবে কাদের সাহেবের চিকিৎসা হ্যান্ডেল করেছে তা কমেন্ডেবল। প্রচণ্ড রাজনৈতিক প্রেসারের মুখে রোগীকে রাস্তার ওপারে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক অথবা ইউনাইটেড বা ল্যাবএইড এ না পাঠিয়ে, মূলত রোগীর অবস্থা বিবেচনায় নিজেরাই এনজিও সুইটে নিয়ে গিয়ে পিসিআই করেছে এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এবং এখনও চমৎকারভাবে তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে। এখনও বেলুন পাম্প দিয়ে করোনারিব্লাড ফ্লো মেইন্টেন করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটরে রাখা আছে। আজ প্রেস কনফারেন্সে তাদের কনফিডেন্সটা দেখার মতো ছিল। হয়তোবা একটু স্ট্যাবল হলে উনি সিঙ্গাপুর যাবেন, কিন্তু কাদের সাহেবের যা সমস্যা তার পরিপূর্ণ চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়- খুব ভালোভাবেই হয়।
বাংলাদেশে রাজনীতিবিদরা খুব আনহেলদি জীবনযাপন করেন, এক্সারসাইজ করেন না। নিয়মিত বাইরে আনহেলদি খাবার খান। অনেকে ধূমপান করেন এবং অনেকেরই আনট্রিটেড স্লিপ এপনিয়া (নাক ডাকার রোগ)। এসব মিলিয়ে ওনারা একেবারে হার্ট অ্যাটাকের টাইম বোমা।

প্রেস কনফারেন্স থেকে যা জেনেছি, কাদের সাহেবের RCA ১০০% ব্লক ছিল, LAD ৯৯% এবং সম্ভবত LCX ৮০% ব্লক ছিল। ডাক্তাররা সঠিক ডিসিশন নিয়েই LAD স্টেন্ট করেছেন। বুদ্ধি করেই টোটালি অক্লুডেড RCA তে যান নাই। এখন রিপারফিউশন ইনজুরি মাথায় রেখে কেয়ারফুলি আগাচ্ছেন।

বাংলাদেশে মেডিকেল সাইন্সের যেই ফিল্ডগুলো সবচেয়ে এগিয়ে গেছে এবং স্থান কাল পাত্র বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে – সেগুলার মধ্যে কার্ডিওলজি ও পেডিয়াট্রিক্স অন্যতম। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সামর্থ্যে দেশের মানুষের কোনো সন্দেহ থাকলে তাদের বলবো কাদের সাহেবকে চিকিৎসা প্রদানকারী কার্ডিওলজি টিমের দিক তাকান, দেখবেন স্কিল আর কনফিডেন্সের অপূর্ব সম্মিলন!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি