শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করা হলো না মিথির

বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করা হলো না মিথির

বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করা হলো না মিথির

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আইনজীবী মাসুদুর রহমানের একমাত্র সন্তান তানজিলা মৌলি মিথি (২৪) আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। মিথি রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় স্বামীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। আগামী ২ এপ্রিল সান্তাহারে এসে বাবা-মায়ের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করার কথা ছিল মিথির। কিন্তু সেই ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না তাঁর। এফআর টাওয়ারে লাগা ভয়াবহ আগুন মিথির দেহকে অঙ্গার করে দিয়েছে।সঙ্গে পুড়িয়েছে তাঁর স্বপ্ন।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে মিথিদের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদ। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মিথির মা। বাবা মাসুদুর রহমান মেয়ের লাশ নিতে গিয়েছিলেন ঢাকায়।বেলা ১১টায় মিথির লাশ বহনকারী গাড়িটি বশিপুর গ্রামে এলে সেখানে শুরু হয় মাতম। এ সময় স্বামী রিমন, বাবা মাসুদ, মা ফেন্সি আকতারসহ স্বজনদের মাঝে আহাজারি শুরু হয়।তাঁর গ্রামের বাড়ি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর গ্রামে।

মিথির চাচা সালাউদ্দিন সরদার বলেন, ঢাকায় একটি ট্যুরিজম কোম্পানিতে চাকরি করতেন মিথি। এভাবে মিথির চলে যাওয়াটা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

আগুনে আটকা পড়ার পর মিথি তাঁর বাবা ও স্বামীকে মোবাইলে বলেছিলেন, আমাদের অফিসে আগুন লেগেছে, আমি আগুনে আটকা পড়ে আছি। আমাকে বাঁচাও, আমি বাঁচতে চাই। মোবাইল ফোনে স্বামী ও ফুফাতো ভাইকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন তানজিলা মৌলি মিথি (২৫)। কিন্তু, বাঁচতে পারলেন না।

ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত ফুফাতো ভাই মৌসুমের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বজনরা জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর মিথি মৌসুমকে ফোন করে জানান, তাদের ভবনের নবম তলায় আগুন লেগেছে। এর কিছুক্ষণ পর থেকে মিথির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মেয়েকে বাঁচাতে বাবা মাসুদুর রহমান দিশেহারা হয়ে বগুড়ার সান্তাহার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ঢাকায় আসার পর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন মেয়ের আগুনে পোড়া নিথর দেহ। ভোটার আইডি কার্ড ও হাতের আংটি দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন বাবা।

প্রথমে ঢাকার মিরপুরে মিথির প্রথম জানানা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বাদ জুমা বগুড়ার সান্তাহারে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মিথির বিয়ে হয় মাত্র আট মাস আগে। স্বামী রায়হানুল ইসলাম রিমন চাকরি করেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে। মিথি নিজেও চাকরি করতেন ট্যুরিস্ট অ্যান্ড হেরিটেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। এফআর টাওয়ারের দশম তলায় ছিল মিথির অফিস। তানজিলা মৌলি মিথি চাকরির পাশাপাশি ঢাকায় বেসরকারি এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বিবিএ ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৫৯ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি