মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
বিয়ে করতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে শেকলবন্দি!

বিয়ে করতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে শেকলবন্দি!

বিয়ে করতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে শেকলবন্দি!

Spread the love

বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে আসছিলেন মাহফুজা আক্তার মুন্নি (৩৯)। পরে সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে তালাক দেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। তালাক দেয়ার দুইবছর পর কৌশলে তাকে নিয়ে এসে গত ২৬ দিন ধরে পায়ে শিকল বেঁধে আটক করে রেখেছে সাবেক স্বামীসহ আপন ছেলে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে শিকলবন্দী অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সে পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার মজিবর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছেন। এছাড়াও নির্যাতন করে বেঁধে রাখার ঘটনায় আরও তিনজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২৬ দিন আগে দুই সন্তানের জননী মাহফুজা আক্তার মুন্নীকে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সোলেমান মিয়া ও ছেলে মিরাজসহ কয়েকজন নিয়ে আসে। পরে তাকে সোলায়মান মার্কেট এলাকার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষের ভিতর খুটির সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে।

এসময় অপহরণ এবং নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই নারীর দেবর আলেক মিয়া (৩৫) ও ওই নারীর ছেলে মিরাজুল ইসলামকে (২৪) আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহফুজা আক্তার মুন্নী জানায়, ১৯৯৪ সালে একই এলাকার সোলেমানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছেলে মিরাজ ও মেয়ে মার্জিয়াকে নিয়ে স্বামীর ঘরে বসবাস করি। এসময় তার স্বামী ঠিকমতো ভরণপোষণ না দেয়ায় সে মাশরুম চাষ করে সংসারের খরচ চালাতো। প্রায় তিন বছর আগে স্বামী সোলেমান তাকে গরম পানি দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেয় এবং আড়াই বছর আগে লোহার সাবল দিয়ে বাম হাত ভেঙে দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত অত্যাচারে গত দুই বছর আগে তালাক দেয় স্বামীকে। পরে বাপের বাড়িতে চলে আসে মাহফুজা আক্তার মুন্নী।

এদিকে কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলেকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে স্বামী সোলেমান ও ছেলে মিরাজসহ পরিবারের লোকজন আমাকে অপহরণ করে নিয়ে ঘরে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে রমিজা নামে তার এক বান্ধবী ওই বাড়িতে গিয়ে মুন্নীকে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের জানালে কৌশলে পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, অমানবিকভাবে নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে জানতে পেরে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত নারীকে শিকল বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা হচ্ছে, স্বামীকে তালাক দিয়ে পুনরায় অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় মুন্নী। সে বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ছেলে ও সাবেক স্বামী। তাই তাকে কৌশলে নিয়ে আটকে রাখে।এঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

এঘটনায় সাভার মডেল থানায় অপহরণ ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখার দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি