রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করত মুন্না

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করত মুন্না

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করত মুন্না

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে মুন্না ভক্ত (২০) নামে এক ডোম সহকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মুন্নার কুকীর্তির নাটকীয় সব ঘটনা। শতাধিক মৃত নারীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর তথ্যও পাওয়া গেছে।

অস্বাভাবিকভাবে মারা যাওয়া পাঁচ নারীর বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি কর্মকর্তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে দেখতে পান ওই নারীদের লাশে একই ব্যক্তির শুক্রাণু। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন, এসব নারীর মৃত্যুর পেছনে কোনো সিরিয়াল রেপিস্ট অথবা সিরিয়াল কিলারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কিন্তু সুরতহাল কিংবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লাশে আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় তদন্তে নতুন মোড় নেয়। মর্গেই মৃত নারীদের ধর্ষণ করা হতে পারে সন্দেহে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এর সঙ্গে জড়িত ওই মর্গের সহকারী ডোম মুন্নাকে ১৯ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়। গতকাল তাকে আদালতে পাঠানো হলে সে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুন্না সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য আসা কমবয়সী নারীদের ধর্ষণ করত। সে মর্গের ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না শতাধিক মৃত নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার জানান, বিকৃত মানসিকতা থেকে এ রকম কাজ করেছে মুন্না। সে এসব নোংরা কাজে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে। মুন্নাকে ধরতে বিশেষ কৌশল নিতে হয়েছে সিআইডিকে। মুন্না রাতের বেলায় মর্গের পাশে একটি কক্ষে থাকত। অনুসন্ধানে নেমে মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা।

তাদের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন লাগাতার তারা মুন্নাকে অনুসরণ করতে থাকেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে গিয়েছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহারার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে, কৌশলে মুন্নার পান করা সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রোফাইলের সঙ্গে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএ’র। এর আগে গত ১০ নভেম্বর সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেষকরা নড়েচড়ে বসেন। ‘কোডেক্স’ নামে যে সফটঅয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করা হয় সেটি সংকেত দেয় যে- ৫টি লাশে এক ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। পাঁচ জনই কিশোরী। তাদের বয়স যথাক্রমে- ১১, ১৩, ১৪, ১৬ এবং ১৭ বছর। ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় এদের লাশ মর্গে নেওয়া হয়েছিল। এই ৫টি আত্মহত্যার ৪টিই মিরপুর এবং ১টি ঘটেছে মোহাম্মদপুর এলাকায়। দুটি ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও দুটি আগস্টে। সময়, এলাকা, বয়স ও লিঙ্গ একই ধরনের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডির ধারণা হয় মৃতরা কোনো সিরিয়াল কিলারের শিকার। ওই সিরিয়াল কিলার আরও হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে তদন্তে নামে সিআইডি।

তারা মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া ৫টি অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এতে তারা জানতে পারেন, ৫টি মামলার লাশের সুরতহালে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে। প্রত্যেকে দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৩টি ঘটনায় স্বজনদের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করেছে। সব মিলিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এরপরই ওই অভিনয়ের আশ্রয় নেয় সিআইডি। সিআইডি জানায়, ২০১৫ সালে হাই কোর্ট এক আদিবাসী নারীর অপমৃত্যু মামলার রায়ে এক ঐতিহাসিক আদেশ দেয়। তাতে বলা হয়, কোনো নারীর অপমৃত্যু হলে, তাদের যৌনাঙ্গ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে অপমৃত্যুর আগে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা।

তারপর থেকে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব আদালতের এই নির্দেশ মেনে আসছে। সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, তারা প্রাপ্ত আলামত ও প্রতিটি অপরাধ সংগঠনের প্রক্রিয়া বা মোডাস অপরেন্ডি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ধারণা করেন- মর্গের ভিতর থেকে কেউ না কেউ মৃতদেহে যৌন লালসা চরিতার্থ করেছে। তারা মর্গে কর্মরত ডোমদের ওই মামলার ময়নাতদন্তকালীন গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখেন যে- মুন্নাই ওই পাঁচটি ঘটনার সময় রাতে লাশ পাহারা দেওয়াসহ মর্গে অবস্থান করে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ করলে সিআইডির অনুসন্ধানে ডোম মুন্নার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি টের পেয়ে মুন্না গা ঢাকা দিলে সিআইডির সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করে সিআইডি। এরপরই মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়।


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি