বৃহস্পতিবার, ২৯ Jul ২০২১, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদের পাতায় আপনাকে স্বাগতম
মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নবজাতক বিক্রির চেষ্টা

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নবজাতক বিক্রির চেষ্টা

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নবজাতক বিক্রির চেষ্টা

Spread the love

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা শহরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি নবজাতককে বিক্রি করা হয়েছে। এমন একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের নজরে আসে। এরপর রোববার (১৩ জুন) রাতে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ জুন) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দলকা লক্ষিপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার মানসিক ভারসাম্যহীন সুমাইয়া খাতুন ওরফে অনন্যার (২২) প্রসববেদনা শুরু হয়। এসময় তাকে ভর্তি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের উপশম নার্সিং হোমে। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

এরপর একইদিন নবজাতককে গোপনে নিয়ে যায় দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের রিপন-লিপা দম্পত্তি। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ওই দম্পত্তি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নবজাতকে কিনে নিয়েছে এমন অভিযোগ উঠে।

বিষয়টি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। এরপর এসপির নির্দেশে সদর থানার একটি দল রোববার সন্ধ্যায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একইদিন রাতেই পুলিশের একটি দল উপশম নার্সিং হোমে যায়। নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে মেলে সুমাইয়া খাতুনের সন্ধান। তিনি নার্সিং হোমের তৃতীয় তলায় ভর্তি ছিলেন।

সুমাইয়া খাতুনের শয্যাপাশে থাকা চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় মার্কাসপাড়ার ববিতা খাতুন বলেন, ‘রিপন আলী ও তার স্ত্রী লিপা খাতুন আমার আত্মীয়। সুমাইয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ও দরিদ্র। এজন্য তার শিশু জন্ম নিলে লিপাকে দেয়ার জন্য বলি তার সঙ্গে। তিনি এতে রাজ হন। এছাড়া ক্লিনিকের খরচ ও সুমাইয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন রিপন-লিপা দম্পত্তি। শনিবার জন্ম নেয়ার কিছুক্ষণ পরই ওই দম্পতি নবজাতককে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।’

এ ব্যাপারে উপশম নর্সিংহোমের মালিক ডা. জিন্নাতুল আরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখখরুল আলম খান বলেন, ‘এসপির নির্দেশে আমরা শিশুকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আসলে তারা যে কাজটি করেছে সেটি এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। শিশুর যে অধিকার সেটি রক্ষিত হয়নি। তাকে যদি নিতে হয় তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে।’


Comments are closed.




© All rights reserved © 2018 sangbaderpata.Com
কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ার বিডি